তারিখ : ২৬ মে ২০২০, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

সামাজিক দূরত্ব মানতে অস্থিরতা,বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

সামাজিক দূরত্ব মানতে অস্থিরতা, বাড়ছে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা
[ভালুকা ডট কম : ১৮ মে]
গত ২৪ ঘন্টায় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক নতুন আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছে। গোটা পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে কোভিড-১৯ নামক প্রাণঘাতীভাইরাস। বিশ্ববিখ্যাত অণুজীব গবেষকগণ ও চিকিৎসাবিজ্ঞান আজ হন্য হয়ে খোঁজ করছেন  এর প্রতিষেধক। মহামারি করোনাভাইরাস নির্বিচারে তাণ্ডব চালাচ্ছে সকল দেশের সর্বস্তরের জনজীবনে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নানানরকম ব্যবস্থাপত্র সুপারিশ করছে। যেমন সাবান পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে হাত ধোয়া, অপরিষ্কার হাতে নাকে- মুখে- চোখে স্পর্শ না করা, জরুরী না হলে নিরাপদে ঘরে থাকা, বাইরে গেলে সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করা, হাঁচি-কাশি শিষ্টাচার ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞগণ বার বার যে বিষয়ে জোর দিয়েছেন তা হলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। সামাজিক দূরত্ব হলো অন্যদের কাছ থেকে শারীরিকভাবে নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রাখা। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাণু সংক্রামক বিভাগের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত এক প্রবন্ধে সামাজিক দূরত্ব বিষয়ে চারটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে।

যেমন-১. অফিসে না গিয়ে বাসায় কাজ করা, ২. প্রিয়জনদের খুব কাছে না গিয়ে ইলেকট্রনিক উপায়ে যোগাযোগ করা, ৩. প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে অনলাইনে ক্লাস নেয়া, ৪. বড়সড় সমাবেশ ও সভা বাতিল বা এড়িয়ে চলা। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে তিনটি বৈশিষ্ট্য মেনে চলা যায়। যেমন- ১. অন্যের স্পর্শ এড়িয়ে চলা, ২. বাসায় থাকা এবং ৩. ভিড় এড়িয়ে চলা। দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের এক নিবন্ধ বলছে চারটি বৈশিষ্টের কথা। এগুলো হলো- ১. অতি প্রয়োজনে বাজারে যাওয়া, ২. দিনে কেবল একবার শরীরচর্চা করা, ৩. চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে কেবল বাইরে যাওয়া, ৪. ঘরে বসে কাজ করা তা সম্ভব না হলেই কেবল অফিসে যাওয়া।

ঘুরে ফিরে কেবল সামাজিক দুরত্বের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। সামাজিক দুরত্ব মানে মূলত শারীরিক দূরত্বের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ পারস্পরিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে, নির্ধারিত দূরত্ব বজায় চলতে হবে। প্রতিটি মুহূর্তে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত  করে চলতে হবে। কমপক্ষে তিনফুট বা এক মিটার, তবে ভাল হয়  যদি এ দূরত্ব ছয় ফুট পর্যন্ত বজায় রাখা যায়। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত কার্যকরী এ কারণে যে, আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি বা শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ড্রপলেট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এ ড্রপলেটেই অসংখ্য ভাইরাস ঠাসা থাকে। যেসব জায়গায় এ ড্রপলেট বিস্তার লাভ করে সেইসব জায়গা হয়ে উঠে সংক্রমণের উৎসক্ষেত্র এবং সেখান থেকে অন্যজনের শরীরে প্রবেশ করে। এ ক্ষেত্রে হাতের স্পর্শ বা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে নতুন কেউ সংক্রমিত হতে পারে। মূলত এ কারণেই সামাজিক দুরত্বের বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কেউ যদি অন্যের থেকে দূরে থাকেন, খুব কাছে না যান, তাহলে সেই ব্যক্তির সংক্রমিত হওয়ায় সম্ভাবনা কম থাকে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে বলেছেন, “করোনাভাইরাস মোকাবিলাও একটা যুদ্ধ, যে যুদ্ধে মানুষের দায়িত্ব হলো ঘরে থাকা”। তিনি আরো বলেছেন, “ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন। সবাই যার যার ঘরে থাকুন, ভালো থাকুন,সুস্থ্য থাকুন, নিরাপদ থাকুন। সকলের প্রচেষ্টায় আমরা এ যুদ্ধে জয়ী হব”।

ঘন্টায় ঘন্টায় সাবান পানিতে হাত ধোয়া,মাস্ক ব্যবহার করা প্রভৃতি ব্যাপারগুলো বাংলাদেশের মানুষ মেনে চলার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সামাজিক দুরত্ব মেনে চলার ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছেন। কারণে আর অকারণেই হোক অনেকেই বিষয়টাকে খুব হালকা ভাবে নিচ্ছেন। সামাজিক দুরত্বের বিষয়টি অনেককেই বুঝানো যাচ্ছে না। রাস্তা-ঘাট,হাট-বাজার, ব্যাংক, বিভিন্ন জরুরী সেবার অফিস, শপিংমলগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভীড়। প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে জনগণের ঘোরাঘুরি বাড়ছে।

মানুষের প্রয়োজনের ধরণেও আসছে ভিন্নতা, কারো কাছে বিলাসিতাগুলো প্রয়োজনীয়তা হয়ে উঠছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হচ্ছে। এমনকি গণমাধ্যমে প্রতিনিয়ত সচেতনতা মূলক বিষয় উপস্থাপন করা হচ্ছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে জনগণকে নিরাপদ রাখতে। মহামারি ঠেকাতে সবরকম চেষ্টা সরকার অব্যাহত রেখেছে। সবাইকে ঘরে থাকার রাষ্ট্রীয় নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সরকারি আদেশ কার্যকর করার প্রয়াসে সিভিল প্রশাসন ও সশস্ত্রবাহিনী একসাথে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তারপরও অনেক মানুষ সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখছেন না। ধৈর্যচুতি আমাদের সমাজের ব্যাধি সংক্রামকে পরিণত হচ্ছে। সমাজের অনেকেই শৃঙ্খলা, শিষ্টাচার ভুলতে শুরু করেছেন। অল্পতেই অস্থির হয়ে উঠার প্রবনতা বাড়ছে।

দৈনন্দিন জীবনে কাজের শৃঙ্খলা বিন্যাসের ব্যাপারে উদাসীনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। যেমন, ব্যাংকের কোনো কাজ থাকলে অনেকেই সেটা করতে চান কোনো এক ফাঁকে। এ কাজের জন্য আলাদা সময় কম, লাইনে দাঁড়াতে অনেকের অস্থির লাগে। রাস্তায় ছোট -বড় যানবাহনে অস্থিরতা, কে কার আগে যাবেন, প্রতিযোগিতা হয় কোন ফাঁকে সুকৌশলে নিজের ভালোটা আদায় করা যায়। দোকানের সামনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখায় অস্থিরতা, শপিংমল, হাসপাতালে, বাজারে প্রভৃতি জায়গাগুলোতে নিয়ম মানতে কষ্ট হয়, অস্থির লাগে। কতিপয় ক্ষেত্রে প্রেস্টিজ রক্ষা বা পাওয়ারের ব্যাপার ও থাকে। এসব নিয়ে আবার শুরু হয় তর্কবির্তক। তবে অনেকে আবার সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। অনেকেই শৃঙ্খলা রক্ষা করছেন।

আমাদের অনেকের ক্ষেত্রেই চিত্তে অস্থিরতা, ঘরে থাকতে অস্থির লাগে, ঈদের কেনাকাটা  করাই লাগবে। বাস্তবতা উপেক্ষা করে আজো ফেরিঘাটে জনগণের অস্থিরতা বাড়ে। এসবের কারণে সামাজিক দূরত্বে ছেদ ঘটছে। ফলাফল যা হবার তাই হচ্ছে। প্রতিদিন  নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৩,৮৭০ জন, যার মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪,৫৮৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৪৯ জনের। বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন, নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি ভয়াবহ। সংক্রমণের সংখ্যা কমাতে হলে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার বিকল্প নেই। আসুন আমরা স্থির চিত্তে অনুধাবণ করতে শিখি ব্যক্তি ভালো থাকলে তাঁর পরিবার ভালো থাকবে। পরিবার ভালো থাকলে সমাজের ভালো থাকা হবে।

এভাবে রাষ্ট্রের কল্যাণ সাধিত হবে। সুতরাং ব্যক্তি পর্যায়ের অবদান হতে পারে দেশের জন্য অনেক বড় অবদান। চলুন আমরা বিবেক জাগ্রত করে সামাজিক দুরত্ব সফল করি এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিহত করি।

বার্তা প্রেরক
জাহাঙ্গীর আলম তরফদার
প্রভাষক, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ
সরকারি এম এম আলী কলেজ, টাঙ্গাইল।





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

সম্পাদকীয় বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৫০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই