তারিখ : ২৬ মে ২০২০, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় টেন্ডারের গাছ কর্তন নিয়ে অনিয়ম

নওগাঁয় টেন্ডারে লেখা আছে ঝড়ে ভাঙ্গা ও মরা গাছ কর্তন,কাটা হলো ছায়া শীতল জীবিত গাছ
[ভালুকা ডট কম : ০১ এপ্রিল]
টেন্ডার লেখা রয়েছে ঝড়ে ভাঙ্গা/মরা ৯টি গাছ কাটার কথা। কিন্তু মরা এবং ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাছের পরিবর্তে কেটে নেওয়া হয়েছে জীবিত ৯টি গাছ। এ ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায়। ইজারা গ্রহীতা আব্দুস সালাম এক লক্ষ টাকা মূল্যে গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

সূত্র জানায়, গাছগুলো কর্তনে খাতাপত্রে সরাসরি নিলাম এবং ঝড়ে ভাঙ্গা ও মরা গাছ দেখানো হয়েছে। অথচ ইউএনও ইজারা গ্রহীতার সঙ্গে যোগসাজস করে নামে মাত্র মূল্যে জীবিত গাছগুলো কেটে নেওয়ার জন্য সন্ধি করেন। উপজেলা চত্বরে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ সম্প্রসারণের অজুহাতে এই গাছগুলি প্রয়োজন ছাড়াই কাটা হচ্ছে। অথচ মসজিদ থেকে অনেক দূরে রয়েছে এই গাছগুলি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২২ মার্চ নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তর থেকে ৪৬.৪৩.৬৪৮৫.০০৬.০৩৪.৩৪.২০-৩৩৭ নং স্মারকে টেন্ডারের মাধ্যমে ঝড়ে ভাঙ্গা ও মরা গাছ কর্তনের ইজারা প্রদান করা হয়। উপজেলা পরিষদ চত্বরের পশ্চিম দিকে অবস্থিত এই ৯টি গাছের মধ্যে ৮টি ইউকাল্পিটাস ও ১টি বড় পুরাতন রেইন্ট্রি গাছ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ উপজেলা চত্বরে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা মরা কোন গাছ নেই তাই ইজারা গ্রহীতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজস করে জীবিত গাছগুলি কেটেছেন। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনার খোরাক যুগিয়েছে। ফলে সবগুলি গাছ কর্তন করা হলেও রহস্যজনক ভাবে রেইনট্রি গাছটির কিছু ডালপালা কাটার পর গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইজারা গ্রহীতার পক্ষের লোকজন ক’দিনে উপজেলার পরিষদের অভ্যন্তরের জীবিত ৮টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেলে রেখেছে। তবে ছায়াবৃক্ষ  ১টি রেইনট্রি গাছের ডালপালা কর্তন করা হলেও কাজ বন্ধ থাকায় গাছটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের অনেকে বলেন, উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত এলাকার ঝড়ে ভাঙ্গা ও মরা ৯টি গাছ কর্তনে নিলাম হয়। কিন্তু তা না করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঁতাত করে নামকাওয়াস্তে টেন্ডার দিয়ে বিশালাকারের সবুজ ৯টি ছায়াবৃক্ষ কেটেছেন। তারা বলেন, গত ৫বছর রাণীনগরে গাছপালা ভেঙ্গে যাওয়ার মতো কোন ঝড় হয়নি এবং  উপজেলা পরিষদ চত্বরে কোন গাছ ঝড়েও ভাঙ্গেনি, মরেও যায়নি। মাঝখান থেকে বিভিন্ন সময় গাছগুলির নিচে বসে যে বিশ্রাম নিতাম এখন থেকে সে জায়গাটুকুও রইলোনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন ও অন্যান্য আবাসিক ভবনের নামমাত্র সংস্কারের নামে সরকারি লাখ লাখ টাকা হরিলুট করারও অভিযোগ রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় উপজেলা পরিষদ চত্বরের এসব পুরনো ছায়াবৃক্ষ কাটা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এই গাছগুলো বিক্রির জন্য কবে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে বা কিভাবে কত টাকা মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে তা গাছ বিক্রয় কমিটির অনেক সদস্যই জানেন না।

টেন্ডার কমিটির সদস্য উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাইদুর রহমান মিঞা বলেন নির্বাহী কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক সাহেবের অনুমতি নিয়ে এই কাজটি করেছেন। তবে বিস্তারিত জানতে চাইলে আপনি নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন।

মুঠোফোনে গাছ বিক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এই কাজটি করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি নিউজ না করতে এবং সরাসরি দেখা করতে অথবা তার কাছে প্রতিবেদকের প্রতিনিধিকে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেন। অন্য একটি প্রশ্নে তিনি এ সংশ্লিষ্ট কোন কাগজপত্র দিতে বা দেখাতে অনিহা প্রকাশ করেন।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৫০ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই