তারিখ : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় হাসপাতালে যক্ষার ঔষধের সঙ্কট,রোগীদের বিড়ম্বনা

ভালুকায় হাসপাতালে যক্ষার ঔষধের সঙ্কট,রোগীদের বিড়ম্বনা
[ভালুকা ডট কম : ০৬ নভেম্বর]
ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যক্ষা রোগীদের ঔষধের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে বর্তমানে হাসপাতালে থেকে প্রায় ৫শ রোগীর চিকৎসা নেয়া অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ভালুকার ডেমিয়ান ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বলছেন সরকারী ভাবে ঔষধ সরবরাহ কম থাকায় রোগীদের চাহিদা মোতাবেক ঔষধ দেয়া যাচ্ছে না।

সূত্রে জানাযায়, ডেমিয়ান ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান ১৯৯৫সাল থেকে ভালুকা উপজেলায় যক্ষা রোগীদের বিনা মূল্যে ঔষধ ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। উপজেলায় ৩শতাধিকেরও বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠান থাকায় এখানে কয়েক লাখ শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের লোকজন বসবাস করছে। তাই অত্র উপজেলায় যক্ষা রোগির সংখ্যাও বেশি। ১৯৯৫সাল শুরুর দিকে পরীক্ষা মূলক ভাবে ডেমিয়ান ফাউন্ডেশন কাজ করার পর দেখা যায় এ উপজেলায় যক্ষার প্রদোর্ভাব বেশি। ইতিমধ্যেই অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা নিয়ে হাজার হাজার রোগী সুস্থ হয়েছেন। গত ২মাস যাবত চাহিদা মতো ঔষধ সরবরাহ না থাকায় সীমিত আকারে আগন্তক রোগীদেরকে ঔষধ সরবরাহ করা হচ্ছে। পূর্বে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী এক সাথে ২/৩মাসের ঔষধ রোগীদেরকে দেয়া হতো। তদস্থলে বর্তমানে একজন রোগীকে ৩দিনের ঔষধ দেয়া হচ্ছে। যেখানে  ডেমিয়ান ফাউন্ডেশনের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঔষধ পৌঁছিয়ে দেয়ার কথা। এখন রোগীরা নিজেরাই এসেই হাসপাতালে ভীর জামাচ্ছেন ঔষধের জন্য। ডেমিয়ান ফাউন্ডেশনের লোকজন রোগীদের চাহিদা মতো ঔষধ দিতে পাচ্ছে না। এ নিয়ে রোগী ও এনজিও সদস্যদের মাঝে কথা কাটাকাটি হচ্ছে। রোগীরাও খুব কঠিন কথা বলতে সাহস পান না কারণ ঔষধ গুলো দেয়া হয় সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে। বর্তমানে হাসপাতালে যক্ষা রোগীর কোনো ঔষধ মজুত নেই। আশপাশের উপজেলা ও ব্র্যাক থেকে ম্যানেজ করে সীমিত আকারে রোগীদের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। অতি শীঘ্রই ঔষধ সরবরাহ না করা হলে প্রায় ৫শত রোগীর চিকিৎসা সেবা নেয়া অনিশ্চয়তার মাঝে পড়বে। একজন রোগীকে যদি বাইরে থেকে ঔষধ কিনে খেতে হলে প্রতিদিন প্রায় একশত টাকা করে খরচ হবে। যক্ষার এ সব ঔষধ বাইরে ফার্মেসিতে পাওয়া দোষপ্রাপ্য। অনেক হতদরিদ্র রোগীরা বাইরে থেকে ঔষধ কিনে সেবন করতে পারবেন না। একজন যক্ষা রোগীকে কম পক্ষে ৬মাস সর্বোচ্চ ২বছর পর্যন্ত একটানা চিকিৎসার নিতে হয়। যদি মাঝ খানে ঔষধ খাওয়া বাদ পড়ে যায় পূনঃরায় যক্ষায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ডেমিয়ান ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট ডাইরেক্টার ময়মনসিংহ কার্যালয়ের থেকে সময় মতো ঔষধের চাহিদাপত্র জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচীতে না দেয়ায় বর্তমানে ভালুকায় ঔষধের এ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী থেকে প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর চাহিদা মাফিক ঔষধ সরবরাহ করে থাকে। ব্র্যাকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তাদের চাহিদা মাফিক জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী থেকে ঔষধ উত্তোলন করলেও ডেমিয়ান ফাউন্ডেশন ঔষধ উত্তোলন করতে পারেনি।

রোববার ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  গিয়ে দেখা হয় উপজেলার রাজৈ গ্রামে হতদরিদ্র যক্ষা রোগী এলাহী মিয়া সাথে। তিনি গত ৩মাস যাবত ঔষধ খাচ্ছেন। তিনি বলেন,আমি মানুষের কাছ থেকে হাত পেতে গাড়ি ভাড়ার টাকা ব্যবস্থা করে ঔষধ নিতে এসেছি। আমার আসা যাওয়ার ভাড়াই লাগবে দুইশত টাকা হাসপাতাল থেকে তিন দিনের ঔষধ দেয়া হয়েছে। তিন দিন পর আবার কার কাছ থেকে ঋণদার করে টাকা নিয়ে হাসপাতালে আসবো। এ কথা বলেই তিনি চোখ দিয়ে পানি ফেলে দেন।

হবিরবাড়ির আশিকুর রহমান জানান, আমি তিন মাস যাবত ঔষধ খাচ্ছি। গত একমাস যাবত ঠিক মতো ঔষধ পাওয়া যায় না। আজকে মাত্র তিন দিনে ঔষধ দিয়েছে। এ ঔষধ নিয়ে আসা যাওয়া একটা বিরাট বিড়ম্বনা।

ডেমিয়ান ফাউন্ডেশনের ভালুকা টিভি এন্ড ল্যান্সপ্রোসি ইনচার্জ মোজাম্মেল হক জানান, সরকারী ভাবে গত ৩মাস যাবত ঠিক মতো ঔষধ সরবরাহ না করায় আমরা রোগীদেরকে ঠিক মতো সরবরাহ করতে পাচ্ছি না। আশ-পাশের উপজেলা ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ম্যানেজ করে রোগীদেরকে ঔষধ সরবরাহ করা হচ্ছে। আশা করছি কয়েক দিনে মাঝে ঔষধের সমম্যার সামাধা হয়ে যাবে।

ডেমিয়ান ফাউন্ডেশনের ময়মনসিংহের প্রজেক্ট ম্যানেজার জ্যোসনারা বেগম বলেন,আগে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলার এক সাথে ঔষধের চাহিদাপত্র দেয়া হতো। সবশেষ দুই জেলার ঔষধের চাহিদাপত্র আলাদা,আলাদা ভাবে দেয়ায় বিলম্ব হওয়ায় জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী থেকে ঔষধ সরবরাহ করতে পারেনি। বর্তমানে আমাদের বাফারস্টকও শেষে হয়ে গেছে। ভালুকা ঔষধের চাহিদা বেশি থাকায় আমি ব্র্যাক ও  ফুলপুরসহ অন্যান্য উপজেলা থেকে ঔষধের ব্যবস্থা করে ভালুকায় পাঠাচ্ছি।

গত ২৪বছরের মাঝে কোনো সময়ই এ রকম ঔষধের সঙ্কটে পড়েনি এখন কেন পড়লো? এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তিন মাস অন্তর অন্তর জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী থেকে আমাদেরকে ঔষধ সরবরাহ করে থাকে। সবশেষ ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলার পৃথক পৃথক ভাবে চাহিদাপত্র দেয়ায় সিস্টেমের জটিলতায় বিলম্ব হয়েছে। তাই সবশেষ ঔষধ আমরা উত্তোলন করতে পরিনি। আশা করছি দুই এক দিনের মাঝে ঔষধের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২২২ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই