তারিখ : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নতুন নেতৃত্ব চায় বদলগাছী উপজেলা আওয়ামী লীগ

নতুন নেতৃত্ব চায় নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা আওয়ামী লীগ
[ভালুকা ডট কম : ৩১ অক্টোবর]
ধান-চাল ও সবজির ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা। এ উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল জমে উঠেছে। নিজেদের মতো করে প্রার্থীতা জানান দিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে উপজেলার আট ইউনিয়নে কাউন্সিলের জন্য প্রচার প্রচারণা শুরু হয়েছে। আগে ইউনিয়ন কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। তবে কাউন্সিল উপেলক্ষে গত ২১ অক্টোবর উপজেলার ডাকবাংলো হলরুমে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বৈঠকে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ ছাড়া সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠক সূত্র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলমান শুদ্ধি অভিযানের ফলে দলে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। সেই আলোকে বদলগাছী উপজেলার নেতাকর্মীরাও একজন ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পেতে চাইছেন। বিষয়টি উপজেলার হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা ও চায়ের দোকানে এখন মানুষের আলোচনায় ঠাঁই পাচ্ছে। এলাকার ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করতে শুরু করেছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, কাউন্সিল উপলক্ষে উপজেলার আট ইউপির প্রত্যেক ইউপি থেকে ১০০ ত্যাগী নেতার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সেখান থেকে ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হবে। এরপর প্রতিটি ইউনিয়নে ৩১ সদস্যের কাউন্সিলর কমিটি গঠন করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী চার জনের নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন অ্যাড. আ.জ.ম শফী মাহমুদ, মিজানুর রহমান কিশোর, শেখ মো. আয়েন উদ্দীন ও মো. ফিরোজ হোসেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে তিন জনের নাম জোর আলোচনা রয়েছে। তারা হলেন আবু খালেদ বুলু, আব্দুস সালাম ও নজরুল ইসলাম। তবে সভাপতির চেয়ে সাধারণ সম্পাদক নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বেশি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার বেশকয়েকটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা জানান, দলের যাবতীয় কাজ যেহেতু সাধারণ সম্পাদকই দেখে থাকেন। তাই আমরা চাইছি পরিচ্ছন্ন ইমেজের কেউ সাধারণ সম্পাদক হোক। এতে সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ সম্পাদক পদে যে তিন জনের নাম আলোচনায় রয়েছেন তাদের মধ্যে আব্দুস সালাম একজন। তিনি বর্তমানে বদলগাছী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙের দায়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এছাড়া ওই চেয়ারম্যান স্থানীয় এমপি ছলিম উদ্দিন তরফদারের প্রতিনিধি হিসেবে একক নেতৃত্বর বহিঃপ্রকাশ ও অনিয়মের কারণে তিনি দলে এবং এলাকায় বেশ সমালোচিত।

অপরদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু খালেদ বুলু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নৌকা মার্কা নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। পরাজয়ের জন্য দলকে কুক্ষিগত করে রাখা, নেতাকর্মীদের অবজ্ঞা, ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ও সধারণ সম্পাদককে উপেক্ষা করে নিজের মতকে বহাল রাখা ছিল তার পরাজয়ের অন্যতম কারণ। এবারের কাউন্সিলেও বিষয়গুলো প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন অনেক নেতাকর্মীরা।

বদলাগছী সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, গত ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে অর্থ্যাৎ স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করায় দল থেকে আমাকে বহিস্কার করা হয়। পরবর্তীতে আবারও আমাকে দলে ফিরিয়ে নেয়া হয়। তবে নিজেকে একজন ত্যাগ নেতা দাবী করে আগামী উপজেলা আ’লীগের কাউন্সিলে সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচন করবেন বলে জানান তিনি।

উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু খালেদ বুলু বলেন, আমি শহীদ পরিবারের সন্তান। প্রয়াত জলিল ভাইয়ের হাত ধরে আমার রাজনীতি শুরু। কখনো নীতি আদর্শের বাহিরে রাজনীতি করিনি। নিজেকে একজন মাঠের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়। একারণে কর্মীরা আমার পাশে থাকে। আমার বিশ্বাস আগামীতেও নেতাকর্মীরা আমার পাশে থাকবেন। আমি ষড়যন্ত্রে শিকার হওয়ার কারণে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছি। কর্মীরা নৌকায় ভোট না দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন। এছাড়া দলকে কুক্ষিগত করে রাখার বিষয়টি সঠিক না। আর ইউনিয়ন কাউন্সিলের জন্য যে তালিকা তৈরী করা হচ্ছে নেতাকর্মীরা দেখেশুনে সে তালিকা তৈরী করছেন।

বদলগাছী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. আ.জ.ম শফী মাহমুদ শফি বলেন, ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে কাউন্সিল করতে তালিকা প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ। এরপর উপজেলার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে। যেহেতু দীর্ঘদিন থেকে আমি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। কিছুদিন পর উপজেলার কাউন্সিল হবে। তবে এ পদে যারা প্রার্থী হবেন- তারা সমঝোতা বা মতামতের ভিত্তিতে স্থান দেয়া হতে পারে। দলের মধ্যে কোন বিভেদ নাই। আমরা নেতাকর্মীরা মিলেমিশে সকল কার্যক্রম করে থাকি।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

রাজনীতি বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২২২ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই