তারিখ : ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

পাটকল শ্রমিকদের ৮ম দিনের মতো কর্মবিরতি

পাটকল শ্রমিকদের ৮ম দিনের মতো কর্মবিরতি চলছে, মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
[ভালুকা ডট কম : ১৩ মে]
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলের শ্রমিকরা তাদের বকেয়া বেতন ও মজুরি কমিশন-২০১৫ বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি আজ (সোমবার) ৮ম দিনের মতে কর্মবিরতি পালন করছে। একইসাথে প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, খুলনা ও যশোরের ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা সোমবার ভোর ৬টায় স্ব স্ব কর্মস্থলে না গিয়ে অষ্টম দিনে মতো আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে। সকাল ১০টার দিকে খালিশপুর ক্রিসেন্ট জুট মিল প্রশাসনিক ভবনের সামনে শ্রমিকরা সমবেত হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিআইডিসি সড়কে আসে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে।

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) সূত্র জানায়, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মজুরি এবং বেতন বাবদ বকেয়া পরেছে ৭৫ কোটি ১৪ লাখ ৭০০ টাকা। মজুরি ও বেতন না পেয়ে পাটকলগুলোর শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এদিকে শ্রমিকদের অব্যাহত কর্মবিরতি আর অবরোধের কারণে ৮ দিনে খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে পণ্য উৎপাদন বন্ধ থাকায় ৮ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে।

এছাড়া, এসব পাটকলে প্রায় ৩২৫ কোটি টাকা মূল্যের পাটজাত পণ্য মজুত রয়েছে। বিদেশে বাজার মন্দা হওয়ার কারণে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে না। ওদিকে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকেরাও  সোমবার সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করছে। এসময় তারা পাটমন্ত্রী ও বিজেএমসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগের চেয়ে ভিক্ষার থালা হাতে নিয়ে সড়কে অবস্থান করে।

আমিন জুটমিল সিবিএ দফতর সম্পাদক কামাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, সকাল নয়টা থেকে চট্টগ্রামের নয়টি পাটকল কারখানায় সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিকাল চারটা থেকে আমাদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু হবে, চলবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। আমরা আজ সড়কে আসর ও মাগরিবের নামাজ আদায় করব। সড়কেই ইফতার করব।

উল্লেখ্য, পাটখাত প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, বকেয়া মজুরি-বেতন পরিশোধ, জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের রোয়েদাদ ২০১৫ কার্যকর, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ ও গ্র্যাচুইটির অর্থ পরিশাধ, চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের পূর্নবহাল, শ্রমিক-কর্মচারীদের শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ ও চাকরি স্থায়ীকরণসহ ৯ দফা দাবিতে শ্রমিকরা ১৩ মার্চ থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

গত ৭ এপ্রিল বিজেএমসি থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে বকেয়া মজুরি ও বেতন দেওয়াসহ ১৮ মে’র মধ্যে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর শ্রমিকরা অবরোধ ও কর্মবিরতি স্থগিত করে কাজে যোগ দেয়। ২৫ এপ্রিল শ্রম প্রতিমন্ত্রী এসে এক সপ্তাহ সময় নেন। এরপর ২ মে মজুরি না দেওয়ায় ৫ মে থেকে আবার উৎপাদন বন্ধ করে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন শুরু করেছে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অন্যান্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৭৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই