তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় এক মন ধানে এক শ্রমিক,কৃষক দিশেহারা

ভালুকায় এক মন ধানে এক শ্রমিক,মাঠে ধান,কৃষক দিশেহারা
[ভালুকা ডট কম : ১৩ মে]
“৬০০ টেহা এক মণ ধান বেইচ্যা এক কামলার রোজ দেই,আমরা খাইয়াম কি?, সোমবার সকালে বাড়ীর উঠানে মাড়াইকালে ধান উরাতে উড়াতে কথাগুলি বললেন ভালুকার বর্তা গ্রামের বর্গাচাষী হেকমত আলী (৬০)। ভালুকায়  উপজেলার সর্বত্র এখন বোরো ধান কাটার শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হয়ে পরেছে কৃষককূল। একজন শ্রমিকের বেতন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা।

শ্রকিদের সাথে কথা বলে জানাযায় তারা উঁচু ও  সমান জমির ধান কাটার একদিনের মজুরী নিচ্ছেন ৬০০ টাকা আর নামা বিলের জমি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত মজুরী নিয়ে ধান কাটার কাজ করছেন। কারন নামা বিলের জমির ধান কাটতে তাদের নানা সমস্যায় পরতে  হয়। অনেক সময় পানি দূষিত হওয়ার কারনে শরীররে চুলকানি ঘা হয়ে যায়। 

বর্তা গ্রামের চাষী হেকমত মিয়া জানান ধান চাষ করে তারা লোকসানের মধ্যে রয়েছেন। এর কারন হিসেবে তিনি কৃষি উপকরন যেমন বীজ, সার , কীটনাশক, সেচ ব্যবস্থার অতিরিক্ত চড়া দাম হওয়ার কারনে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও ধানের বাজার মূল্য কম থাকায় চাষিরা চরম লোকসানে পরে যান। ৫০ টাকা রিকসা ভাড়া দিয়ে বাজারে একমণ ধান নিয়ে গেলে সারে ৫ শ থেকে ৬০০ টাকা বেচতে হয়। আর কামলার রোজ দেওন লাগে ৬০০ টেহা,এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে ধান চাষে চাষীরা আগ্রহ হারাবেন বলে তিনি  হতাশা ব্যক্ত করেন।

তিনি জানান ভালুকার মানিক চৌধুরীর জমি বর্গা করে সংসারের খাবার ধান জোগার করে থাকেন। চলতি মৌসুমে প্রতি কাঠা জমি আবাদে মাটি চাষ করতে ৩০০ টাকা, চারা ৩০০ টাকা, চারা রোপন ৩০০ টাকা, সেচ ৩৫০ টাকা, সার ৩০০ টাকা, কীটনাশক ১০০ টাকা ধান কাটা মজুরী ৬০০ টাকা মোট খরচ হয়েছে ২২৫০ টাকা। প্রতি কাঠায় ধান পাবেন সর্বোচ্চ ৪ মণ। সর্বশেষ ধান ছড়ানো বা মাড়াই বাবদ প্রতি মণে দুই কেজি হিসেবে মাড়াই কলের মালিককে দিতে হচ্ছে। ভায়াবহ গ্রামে কৃষক আনছারুলের ধান কাটছিলেন শ্রমিকরা তারা জানান ৬০০ টাকা রোজ হিসেবে ধান কাটার কাজ করছেন। ক্ষেত হতে ধান কেটে কৃষকের বাড়ী পর্যন্ত পৌছে দেয়ার চুক্তিতে তারা কাজ করেন।

বর্তমানে ভালুকায় প্রায় শতাধিক ছোটবড় বিভিন্ন মিল ফ্যাক্টরী রয়েছে যেখানে এলাকার দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর যুবক যুবতীরা অনায়াসে শ্রমিকের কাজ করে করে তাদের বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন যে কারনে কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা এ এলাকায় কমে গেছে। আর এর প্রভাব পরেছে এলাকার কৃষি কাজের উপর।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে চলতি মৌসুমে ১৮ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে বোর আবাদ হয়েছে এর মধ্যে কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্যে উপজেলায় ১৬ হেক্টর জমি ব্লাষ্ট আক্রান্ত হয়েছিলো যদিও এলাকাবাসীর দাবী ছিলো অনেক বেশী।

কৃষকরা জানান চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্লাষ্ট ও চিটার কারনে অনেক ফসল নষ্ট হয়েছে। মল্লিকবাড়ী, পানিভান্ডা, সাতেঙ্গা, ভরাডোবা, পুরুড়া, ভাঁটগাও মেদুয়ারী, বগাজান, নারাঙ্গী এলাকায় শ্রমিক সংকটে কৃষকের জমিতে  পাকা ধান পরে রয়েছে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৯২৯ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই